আইসিটি’র ২১ প্রকল্পে হরিলুট, ৫ টাকার জিনিস কেনা হয়েছে ২০ টাকায়

২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ১৭:৩২  

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের চলমান ২১ প্রকল্পে হরিলুটের প্রমাণ পেয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত তদন্ত কমিটি। তদন্তে দেখা গেছে ৫টাকার জিনিস ২০ টাকায় কেনা হয়েছে। আর হরিলুটের এসব প্রকল্পের ভাগ যেতো ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ এবং প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে আইসিটি টাওয়ারের নিজের কার্যালয়ে বসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমনটাই জানিয়েছেন আইসিটি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী।

সচিব বলেছেন, এই অতিরিক্ত ব্যয় করা না হলে ২১ প্রকল্পে ৭ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হতো। এছাড়াও দলীয় এমপিদের খায়েশ পূরণে অজপাড়াগাঁওয়ের ধানক্ষেতে আইটি ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয় করে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পরিবার নিয়ে সিনেমা বানানো হয়েছে এই মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে। অনেক ক্ষেত্রেই আইন ভেঙ্গে প্রকল্প পরিচালক নিজেই কোনো কোনো ক্ষেত্রে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি বনে গেছেন।

তবে সেসব কর্মকর্তা এখন আর আইসিটি বিভাগে কর্মরত নেই বলে জানিয়েছেন সচিব। তিনি বলেছেন, এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে ৪০ জন পরামর্শককে বাদ দেয়া হয়েছে। প্রকল্পে কেনাকাটায় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িততের খুঁজে বের করে জানুয়ারি মাস থেকেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শীষ হায়দার চৌধুরী জানিয়েছেন, ডিজিটাল সরকার ও অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ এবং ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবন ইকোসিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্পসহ বিদেশী অর্থায়নের প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি ‍দুর্নীতি হয়েছে।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ৬৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। তাই এখন কোনো প্রকল্পের প্রয়োজন আছে, আর কোনটার নেই সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যেসব প্রকল্প জনকল্যাণমূলক সেগুলোকে সবুজ পাতার অধীনে এনে আমরা চলমান রাখবো। বাকিগুলো বন্ধ করে দেবো। যেমন ধরেন এজ প্রকল্প থেকে আমরা ১৫০ মিলিয়ন টাকা ইতিমধ্যেই প্রত্যাহার করে নিয়েছি। এই প্রকল্পের পরবর্তী ধাপে সাইবার সুরক্ষার অবকাঠামো নির্মাণে যে কাজ দরকার তা চলমান থাকবে। এই কাজে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সফট ঋণের পরিবর্তে গ্র্যান্ট হিসেবে দেবে। ইডিসি প্রকল্পের কাজ বাতিল করা হয়েছে। এই প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে আমরা চুক্তি নবায়ন করিনি।